• ১৩ মাঘ ১৪৩২, বুধবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Malda

রাজ্য

মালদহ থেকে বন্দে ভারত স্লিপার চালু, অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

বাংলা সফরের প্রথম দিনেই মালদহে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদা টাউন স্টেশন থেকে এ দিন দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি। নতুন এই ট্রেন অসমের উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেন চালু হতেই খুশির হাওয়া মালদহ জুড়ে। উদ্বোধনের পরে ট্রেনের ভিতরে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি মালদহে একটি জনসভাও করেন তিনি।সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বিশ্বের সব উন্নয়নশীল দেশেই অনুপ্রবেশকারীদের বাইরে বের করে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের এক এক করে বের করে দেওয়া জরুরি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলে সেটা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতারাই বছরের পর বছর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় বসবাস করতে দিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের জমি সুরক্ষিত নয়, কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, টাকা লুট হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।মালদহের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার এলে মালদহের আম নির্ভর অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। রাজ্যে আরও বেশি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হবে। রেশম চাষিদের জন্য কোটি টাকার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাট শিল্পকে বাঁচাতে কেন্দ্র সরকার সব রকম চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে যখন তৃণমূল কেন্দ্রের অংশ ছিল, তখন এমএসপি ছিল ২৪০০ টাকা, আর এখন তা বেড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে।বন্যাত্রাণ নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, বহুবার ত্রাণের টাকা দেওয়া হলেও সেই টাকা সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছয়নি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা টাকা পায়নি। তাঁর দাবি, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হলে এই সব দুর্নীতি বন্ধ হবে।আম প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নদীভাঙন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই সব ভেসে যায়, আর বন্যাত্রাণ নিয়ে কী হয়েছে, তা মানুষ নিজেরাই ভালো জানেন।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে বড় সিকিউরিটি অ্যালার্ট, বন্দে ভারত স্লিপারকে লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্র!

আর হাতে গোনা কয়েক ঘণ্টা, তারপরই মালদহ থেকে ছুটবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। তবে এই আনন্দের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আরপিএফ। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া ও কালো পতাকা দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে।আজ দুপুরে মালদা টাউন রেলস্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন ট্রেনের। তার আগে আরপিএফের পক্ষ থেকে কালিয়াচক থানার আইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুবোধ কুমার সাউ নামের একজন ব্যক্তি ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কিছু দুষ্কৃতীরা ট্রেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে হামলার চেষ্টা করতে পারে।আরপিএফের আশঙ্কা অনুযায়ী, জামিরঘাটা, খালতিপুর, চমগ্রাম, শঙ্খপাড়া, নিউ ফরাক্কা, বল্লালপুর, ধুলিয়ান, বাসুদেবপুর ও তিলডাঙা এলাকায় ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হতে পারে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কালো পতাকা দেখানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই কালিয়াচক থানাকে স্টেশনগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।এর আগে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস লক্ষ্য করে একাধিকবার পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তখন রেল কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। এবার যাতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে মুর্শিদাবাদে বড় চমক! অধিকার যাত্রায় নামছে মিম

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ নজর পড়েছে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে। কারণ, বাংলায় ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন বা মিম। ভোটের আগে সংগঠন মজবুত করতেই এবার মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে শুরু হচ্ছে AIMIM-এর অধিকার যাত্রা।দল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অধিকার যাত্রার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি, বঞ্চনা এবং অধিকারকে সামনে রেখে জোরালো আন্দোলনের বার্তা দেওয়া হবে। এই যাত্রায় উপস্থিত থাকবেন AIMIM-এর রাজ্য সভাপতি ও মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ। তাঁর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।সম্প্রতি মালদহে মিমের সক্রিয়তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সন্ধ্যা নামলেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন দলের কর্মীরা। অনেক মানুষ, যাঁরা আগে এই দলের নামও শোনেননি, তাঁরাও এখন সরাসরি মিমের সঙ্গে যোগাযোগ পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বাংলায় মিমের প্রভাব বাড়ছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সদ্য শেষ হওয়া বিহার বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে AIMIM। সেই ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে দলটির তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। একাধিক জেলায় সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি মালদহেও অনেক মানুষ মিমে যোগ দিচ্ছেন বলে দাবি দলের।মিম নেতৃত্ব জানিয়েছে, মালদহ জেলার ১২টি বিধানসভার প্রতিটিতেই তারা প্রার্থী দেবে। এর মধ্যে সাতটি বিধানসভায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদও রয়েছে দলের রাজনৈতিক লক্ষ্য তালিকায়। এর আগেই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি মিমের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়তে পারেন। তার মধ্যেই অধিকার যাত্রা শুরু হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

স্ত্রীর সঙ্গে চলছিল বিবাদ, লাইভ ভিডিওর পর রহস্যমৃত্যু মালদহের যুবকের!

বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই অশান্তি ক্রমে এতটাই বেড়ে যায় যে স্ত্রী আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ ভিডিও করার পর রহস্যজনকভাবে মৃত পাওয়া গেল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কালিতলা মোবারকপুর এলাকার যুবক দুর্লভ সাহাকে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্লভ একটি শোরুমে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী মৌসুমী সাহার সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। কয়েক বছর আগে তাঁদের বিয়ে হলেও সংসারে শান্তি ছিল না। দম্পতির দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, নিয়মিত বিবাদের জেরে মৌসুমী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চাঁচোলে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন তিনি।পরিবারের অশান্তি আরও বাড়ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার রাতে লাইভ ভিডিওর পর শনিবার সকালে দুর্লভের দেহ উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। দেহ পাঠানো হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর পর অবশেষে দেশে ফেরা! অন্তঃসত্ত্বা সোনালির বিস্ফোরক অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে অবশেষে নিজের দেশে ফিরলেন মালদহের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন এবং তাঁর আট বছরের ছেলে। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও বাংলাদেশেই আটকে রয়েছেন। দেশে ফিরেই সোনালি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে আট মাসেরও বেশি সময় তাঁরা চরম কষ্টে ছিলেন এবং দিল্লি পুলিশের হাতে অমানবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তাঁর কথায়, আমরা বহুবার অনুরোধ করেছিলাম। তবুও বিএসএফ দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হল।সোনালি এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। জানিয়েছেন, আর কোনওদিনও দিল্লি ফিরতে চান না। স্বামী-সহ বাকিরা ফিরতে না পারায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সোনালির পরিবারের বাকি সদস্যদেরও দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা উচিত।উল্লেখ্য, কাজের খোঁজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকর এলাকার সোনালি বিবি ও সুইটি বিবিদের পরিবার। অভিযোগ, তাঁদের কাছে বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও ১৭ জুন দিল্লি পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। কারণতাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলছিলেন, এবং সেই কারণেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়। ঠিক সেই সন্দেহের জেরেই ২৬ জুন ছজনকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।সেই সময় সোনালি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বাংলাদেশে ঢোকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলে ধরে এবং মামলা রুজু করে। একশোরও বেশি দিন তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। অবশেষে সোমবার ওই মামলায় জামিন পান সকলেই।ঘটনা পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত স্পষ্ট জানায়, যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে দিল্লি থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও সঞ্জয় হেগড়ে আরও জানান, সোনালির স্বামী ও পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে রয়েছেনতাঁদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা জরুরি। সিলিসিটর জেনারেল এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশ চাইতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তুষার মেহতা দাবি করেন, সোনালি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি, মানবিক কারণেই শুধু সোনালি ও তাঁর ছেলেকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিলই রয়ে গিয়েছে। সোনালি দেশে ফিরলেও তাঁর স্বামী ও পরিবার কবে ফিরবেন, সেই দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

মায়ের কোল থেকে শিশুচুরি, প্রশ্নের মুখে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সিসিটিভি দেখে খোঁজ পুলিশের

ভরদুপুরে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে মায়ের কোল থেকে ১১ দিনের কন্যা শিশুকে চুরি করে চম্পট। এই ঘটনার পর মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় মালদার মোথাবাড়ির বাঙ্গিটোলা সরকারি গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা। সোমবার দুপুর নাগাদ এমন ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্ত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে না পেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই নবমাতৃকা মনিকা বিবি। পরে স্থানীয়রা জল ছিটিয়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে মনিকা বিবি মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাসপাতালে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক মধ্যবয়স্ক মহিলা মনিকার কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই ছবি সংগ্রহ করে আশপাশের সব থানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মোথাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতানটোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও মনিকা বিবির সদ্যোজাত কন্যা সন্তান শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এদিন হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আউটডোরের বেঞ্চে বসে ছিলেন মনিকা। ওই সময় শিশুটি কান্না শুরু করলে একটি অচেনা মহিলা এগিয়ে এসে বলেন, তিনি নাকি শিশুর কান্না থামাতে সাহায্য করবেন। শিশুকে কোলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনিকা চিকিৎসকের ডাকে এগিয়ে যান। আর সেই সুযোগেই শিশুকে নিয়ে গা-ঢাকা দেয় ওই মহিলা।মনিকা অভিযোগে জানান, মেয়ের ঠান্ডা লেগেছিল, খুব কান্না করছিল। ওই মহিলা বলেছিল কোলে নিয়ে চুপ করাবে। আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে যেতেই সে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। একই অভিযোগ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও। শিশুটির কাকা আশরাফুল হক বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনও নিরাপত্তা নেই। ভরদুপুরে বাচ্চা চুরি হয়ে গেল! এখানে যে এমন অপরাধ চক্র সক্রিয়, তা বুঝতেই পারিনি।মোথাবাড়ি থানার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানান, সিসিটিভি পরীক্ষা করেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আশেপাশের থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানা এলাকার বিশেষ নজরদারি চলছে কারণ ওই হাসপাতাল থেকে খুব কাছেই গঙ্গার ওপারে ঝাড়খণ্ডের সীমানা। কালিয়াচক এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুখ স্পষ্ট দেখা গেয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।মালদা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, ঘটনাটি উদ্বেগজনক। পুলিশ তদন্ত করছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর। দিনে-দুপুরে এত লোকজনের সামনে থেকে শিশু চুরি। এমন ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে পাহারা বা নজরদারির কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বহু রোগীর আত্মীয়ই বলছেন, চুরি চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব নবজাতককে উদ্ধার করা এবং অভিযুক্ত মহিলাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা। ইতিমধ্যেই ছবি ও তথ্য সব থানায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করার আশাতেই ব্যাকুল পরিবার।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানে মালদার পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ উদ্ধার

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানের জয়পুরে উদ্ধার হল মালদার পরিযায়ী শ্রমিক হরিবোল ঘোষের দেহ। রবিবার রাজস্থান পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করার পর বুধবার দুপুরে কফিনবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ পৌঁছায় চাঁচল মহকুমার নরদিপুর গ্রামে। গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের আবহের পাশাপাশি চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।হঠাৎ নিখোঁজ, তারপর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত শ্রমিকের নাম হরিবোল ঘোষ (৩৮)। গত ৯ অক্টোবর রাজস্থানের জয়পুরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, গত সপ্তাহে সহকর্মী শ্রমিকরা ফোন করে জানান যে হরিবোল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এরপর পরিবার পুখুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।তবে ঘটনাটি ভিনরাজ্যের হওয়ায় মালদার পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানাতে পারেনি। ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গেও পরিবারের যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।হরিবোলের পিসতুতো দাদা রতন কর্মকার বলেন, মঙ্গলবার থেকে ওর খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ঠিকাদারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। রবিবার রাজস্থান পুলিশ ফোন করে জানায়, রক্তাক্ত অবস্থায় হরিবোলের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ও আত্মহত্যা করতে পারে না। পরিশ্রমের উপার্জিত টাকা ছিনতাই করতেই ওকে খুন করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।গ্রামে আতঙ্ক ও ক্ষোভবুধবার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই গ্রামের বহু শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যান। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে গ্রাম থেকে অন্তত তিনজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে। ফলে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে। এক শ্রমিক পরিবারের সদস্য বলেন, বিনা সুরক্ষায়, না জানি কী ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। এখন আর সাহস হচ্ছে না।রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়ামালতীপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মৃতের পরিবারের পাশে আছি। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।পরিবারের দাবি সঠিক তদন্ত চাইহরিবোল ঘোষের পরিবার দাবি করেছে, তাঁর কাছে রোজগারের মোটা অঙ্কের টাকা ছিল। সেই টাকাই লক্ষ্য করে তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

SIR-এর তৃতীয় দিনেই ফাঁস কেলেঙ্কারি! তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে ফর্ম বিলির অভিযোগ

বাংলা জুড়ে চলছে এসআইআর (SIR) ভোটার তালিকা পর্যালোচনার বিশেষ অভিযান। আজ তৃতীয় দিনেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মালদহের চাঁচলে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে বসেই নাকি ভোটার এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছিলেন এক বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়।ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, কর্তব্যরত বিএলও অলোক চক্রবর্তী ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করার নিয়ম ভেঙে, সরাসরি চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝর্ণা দাস বর্মণের বাড়িতে বসে ফর্ম দিচ্ছেন। ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক, বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচনী নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।চাঁচলের বিজেপি নেতা প্রশান্ত পাল বলেন, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে বিএলওদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করতে হবে। অথচ এখানে দেখা যাচ্ছে, তারা পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে বসে ফর্ম দিচ্ছেন। এটা স্পষ্টতই বিধি ভঙ্গ। আমরা বিষয়টি কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানাব।অভিযোগের মুখে পড়া বিএলও অলোক চক্রবর্তী অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কোনও অনিয়ম করেননি। তাঁর কথায়, আমি শুধু ফর্মগুলো গোছাচ্ছিলাম। বিলি করা হচ্ছিল না। প্রথম দিন হওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছিল, তাই ওই জায়গায় বসে কাজ করছিলাম।অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে পাল্টা দাবি, বিজেপি অকারণে রাজনৈতিক রঙ চড়াচ্ছে। মালদহ জেলা পরিষদের সহকারী সভাপতি জানিয়েছেন, বিএলওদের পাশে থাকেন বিএলএ-২, যিনি তাঁদের কাজে সাহায্য করেন। সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়, তাই এই সমন্বয় জরুরি। বিজেপি হয়ত এসব নিয়ম জানে না।তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ভাইরাল হতেই চাঁচল ও মালদহ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। কমিশনের নির্দেশ মেনে পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের চোখ এখন সরাসরি সেই পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট বিএলওর দিকে।রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নানা প্রান্তে যখন এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে নানা বিভ্রান্তি চলছে, তখন এমন ঘটনায় কি আরও সন্দেহের মেঘ ঘনীভূত হল? এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

শৌচাগারের ট্যাঙ্কি বানাতে গিয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, মৃত দুই

নির্মীয়মান বাড়ির শৌচাগারের ট্যাঙ্কি ভেঙে মৃত্যু হল দুই ভাইয়ের। এই ঘটনায় জখম হয়েছে আরও একজন শ্রমিক । তাঁর চিকিৎসা চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শনিবার সন্ধ্যা ছটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার শহরের সুকান্তপল্লি এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই ভাইয়ের নাম উজ্জল মন্ডল (২৮) এবং অসিত মন্ডল (২৫)। তাঁদের বাড়ি ইংরেজবাজার থানার বাগবাড়ি বাগরড এলাকায়। আহত হয়েছেন অমল মন্ডল(২৫)। তার বাড়ি রতুয়ার করমনি এলাকায়। এদিন তিনজন সুকান্তপল্লি এলাকার একটি নির্মীয়মান বাড়ির শৌচাগারের ট্যাঙ্কির ভেতরে সাটারিং খুলছিল। সেই সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সাটারিংয়ের কাঠ এবং কংক্রিটের চাঙর । এই দুর্ঘটনার সময় তিনজন জখম হলে তাদেরকে মালদা মেডিকেল কলেজে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিয়ে আসে। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসাকেরা দুইজন শ্রমিককে মৃত বলে জানিয়ে দেয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির মালিকের নাম প্রসেনজিৎ বর্মন। পেশায় তিনি স্কুল শিক্ষক। সেখানেই তিনি একটি নতুন বাড়ি তৈরি করছিলেন। পুলিশ বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।শৌচাগারের ট্যাঙ্কি বানাতে গিয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, মৃত দুই

জুন ২১, ২০২৫
রাজ্য

মৌমাছি তাড়া খেযে প্রাণ বাঁচতে ছাদ থেকে লাফ, মৃত গৃহবধূ

মৌমাছির তাড়া খেয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পালাতে গিয়ে শেষমেশ জীবনটাই চলে গেল। দোতলার খোলা ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক গৃহবধুর। মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাটি ঘটে মানিকচক থানার ধরমপুর এলাকায়। এই ঘটনার পর ওইদিনই অচেতন অবস্থায় ওই গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করান তার পরিবারের লোকজন। বুধবার মৃত্যু হয় ওই গৃহবধুর। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন মাথার পিছনে গুরুতর আঘাতের জেরে মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম রাধা মন্ডল (৫৫)। ওই মহিলার তিন ছেলেমেয়ে রয়েছে। তার স্বামী পেশায় কৃষক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , এদিন বিকেলে বাড়ির খোলা ছাদে রান্না করার জন্য খড়ি রাখা ছিল। সেই জ্বালানি ছাদ থেকে আনতে যায় ওই গৃহবধু। ওই বাড়ির পাশে রয়েছে একটি লিচু গাছ। সেখানেই মৌমাছির চাক ভেঙে যাওয়ায় আচমকাই ওই গৃহবধূর ওপর আক্রমণ করে। তড়িঘড়ি মৌমাছির তাড়া থেকে বাঁচতেই খোলা ছাদ থেকে নিচে লাফ দিয়ে দেয় ওই মহিলা। সে সময় মাথার পিছনে জোরালো আঘাতেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি । এরপর স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় ওই মহিলাকে সেদিনই মালদা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। বুধবার সকালে মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। মৃতের এক আত্মীয় বিনয় মন্ডল জানিয়েছেন, দিদির বাড়ির ছাদের পাশে একটি লিচু গাছ আছে। সেখানেই এদিন কয়েকটি অল্প বয়সী ছেলে ঢিল মেরে লিচু পারছিল । সেই সময় মৌমাছির চাকে ঢিল লেগে ভেঙে যায়। তখন দিদি ছাদে খড়ি সংগ্রহ করছিল। মৌমাছির ঝাঁক দিদির ওপর হামলা করে। পালাতে গিয়ে বেসামাল হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারা যায় দিদি।

জুন ১২, ২০২৫
রাজ্য

চায়ের দোকানে খুন, গ্রেফতার তৃণমূলের উপ-প্রধানের দুই ভাই

পূর্ব আক্রোশ বসত এক ব্যক্তিকে রড দিয়ে পিটিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মোহাম্মদ বাবলু (৪৫)। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার গিরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতলাটোলা গ্রামে। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। এদিন বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন বাবলু। আচমকাই কয়েকজন দুষ্কৃতী রড দিয়ে আঘাত করে। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জঙ্গি পুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে ওই এলাকার একটি বুথে তৃণমূল কম ভোট পায়, তা নিয়ে এলাকায় গন্ডগোল বাধে। সেই গন্ডগোলের জেরে এখনও অনেকেই বাড়ি ছাড়া। পূর্বের আক্রোশ বসে এই হামলা বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে কংগ্রেস বেশি ভোট পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের কিছু মাস্তান তাদের ধমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। খুনের ঘটনায় উপপ্রধানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বাবলু শেখের খুনের ঘটনায় পুলিস উপপ্রধান কারু শেখের দুই ভাই তানজিল শেখ ও আসগার শেখ ওরফে হারু শেখকে গ্রেপ্তার করে। দুইজনকে এদিন ১০ দিনের পুলিস হেফাজতের আবেদন জানিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।

জুন ১০, ২০২৫
স্বাস্থ্য

দিনের পর দিন কাজ করেও বেতন জোটেনি, শেষমেশ অবস্থান-বিক্ষোভ মালদা মেডিক্যাল কলেজে

দিনের পর দিন বেতন না মেলায় অবশেষে ক্ষোভ দানা বাঁধলো মেডিক্যাল কলেজের শতাধিক অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে। কাজ করেও তাঁদের বেতন জোটেনি। বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিলেন মালদা মেডিকেল কলেজের শতাধিক অস্থায়ী কর্মী। এদিন সকাল থেকেই মেডিকেল কলেজের ট্রমা কেয়ার ভবনের সামনের অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন অস্থায়ী কর্মীরা। যতক্ষণ পর্যন্ত বেতন সমস্যা না মেটানো হবে ততক্ষণ কর্মবিরতি চলবে বলেও সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হওয়া অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, পরিশ্রম করেও প্রতিমাসে নিয়ম করে বেতন মিলছে না। এই মেডিকেল কলেজের হাউসকিপিং, নিরাপত্তারক্ষী সহ বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ১৮১ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। ১৪ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন প্রত্যেকেই। কিন্তু বেতনের সময় এলেই আর নিয়ম করে তা দেওয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মীদের ছয় মাসের বেতন মেলেনি। আবার কেউ চার মাস এবং তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে গণস্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি দেওয়া হলেও কোনওরকম সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাই নিজেদের বকেয়া বেতনের দাবিতে এদিন কর্মবিরতির ডাক দিয়ে এভাবে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছে। এদিন বিক্ষোভকারী এক অস্থায়ী কর্মী অম্লান মিশ্র বলেন, আমি নিজে ছয় মাস ধরে বেতন পাইনি। অথচ মেডিকেল কলেজের প্রতিদিনই ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা ডিউটি করছি। আমার মতো শতাধিক অস্থায়ী কর্মী মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছে না। অথচ আমরা কর্তব্যে কোনও সময় গাফিলতি করি না। মালদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পার্থ প্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, নির্দিষ্ট একটি এজেন্সির মাধ্যমেই ওই অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করেন। এখানে মেডিকেল কলেজের কোনও হাত নেই। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জুন ০৯, ২০২৫
রাজ্য

খুন করে টুকরো টুকরো দেহ বালি, সিমেন্টে ঢালাই, গ্রেফতার কাকিমা

এ যেন বলিউডের সেই বিখ্যাত হান্ডেড ডেজ সিনেমা। ১৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর একটি নির্মীয়মান বাড়ির ঢালাই সিমেন্টের মেঝে খুঁড়ে এক ঠিকাদারের টুকরো করা দেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। কাকিমার সঙ্গে ওই ঠিকাদারের পরকীয়া সম্পর্কের জের এবং মোটা টাকার লেনদেনকে ঘিরেই এই খুনের ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। চাঁচল মহকুমার পুখুরিয়া থানার কোকলামারি এলাকার বাসিন্দা ওই ঠিকাদার সাদ্দাম নাদাপ (৩৬)। তার কাকিমা মৌমিতা হাসানের বাড়ি ইংরেজবাজার শহরের কৃষ্ণপল্লী বাপুজী কলোনি এলাকায়। মৌমিতার স্বামী রহমান নাদাপ, তিনি পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার শহরের বাপুজি কলোনি এলাকার কাকিমা মৌমিতা হাসানের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে অফিস করেছিল ভাইপো সাদ্দাম। লেবার সরবরাহের পাশাপাশি জমি জায়গার বেচা কেনার সঙ্গে যুক্ত ছিল সাদ্দাম নাদাল। গত ১৮ মে ইংরেজবাজার শহরের বাপুজী কলোনি এলাকার অফিস থেকে রাতে বাড়ি ফেরার সময় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় সাদ্দাম। সেই সময় তার কাছে ছিল ব্যবসার ২৫ লক্ষ টাকা। এই বিষয়ে ইংরেজবাজার থানায় পুখুরিয়া থেকে এসে তার পরিবারের লোকেরা নিখোঁজের লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে সাদ্দামের কাকিমাকে সন্দেহ করে নির্দিষ্ট নাম দিয়ে ২৩ মে আবারপ অভিযোগ দায়ের করেন স্ত্রী নাসরিন খাতুন। এরপরই পুলিশ রবিবার সাদ্দামের কাকিমা মৌমিতাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশি জেরায় মৌমিতা স্বীকার করে তার বাবার বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে নিয়ে গিয়ে ভাইপোকে সুপারি কিলারের সাহায্যে খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন এলাকায় মৌমিতার বাবার বাড়ি। সেখানেই তাদের একটি বাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেই বাড়িতেই গত ১৮ মে সাদ্দামকে প্রলোভন দিয়ে নিয়ে আসে তার কাকিমা মৌমিতা। সাদ্দামের সঙ্গে তার কাকিমার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল গত পাঁচ বছর ধরে। এরপরই সেখানে সুপারি কিলারের সাহায্য নিয়ে খাসি কাটার মতো সাদ্দামের দেহ টুকরো করা হয়। সেই দেহের অংশ নির্মীয়মান বাড়ির মেঝেতে পুঁতে দিয়ে রীতিমতো বালি সিমেন্টের ঢালাই করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পিছনে তিন থেকে চারজন দুষ্কৃতীর সাহায্য নিয়েছে ধৃত ওই মহিলা। সোমবার তপন এলাকা থেকেই মৃত ওই ঠিকাদারের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মোটা টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করেই কাকিমার সঙ্গে গোলমাল চলছিল ভাইপো সাদ্দামের। তার জেরে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এদিকে আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত মৌমিতা হাসান জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। তার স্বামী ও নাবালক সন্তানকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পথের কাঁটা দূর করতে তিনি এভাবে খুন করেছে।

জুন ০৩, ২০২৫
রাজ্য

মেয়ের প্রথম জন্মদিনে রক্তদান শিবির! সাধুবাদ মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের

মেয়ের প্রথম বছরের জন্মদিনের মাধ্যমে মালদা মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকের রক্ত সংকট মেটানোর বার্তা নিয়ে এগিয়ে এলেন দাস পরিবার। বুধবার সকাল থেকেই বাড়ির একমাত্র মেয়ের প্রথম বছরের এই জন্মদিনকে ঘিরেই ধুমধাম ভাবে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ইংরেজবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাটুলি এলাকার দাস পরিবার। বাড়ির সামনেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ভ্রাম্যমান রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয় দাস পরিবারের পক্ষ থেকে। আর এই রক্তদান শিবিরের প্রথম রক্তদাতা হিসাবে ছোট্ট এক বছরের আদিক্সা দাসের বাবা দেবাশীষ দাস স্বেচ্ছায় রক্তদান দিয়ে কর্মসূচি সূচনা করেন। এদিন এই জন্মদিন উপলক্ষে বিকেল পর্যন্ত দেবাশীষবাবুর আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। দেবাশীষবাবুর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ , স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।মালদা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ পার্থপতিম মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এটি খুব ভালো উদ্যোগ। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন , নানান রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলি মাঝে মধ্যেই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করছেন। এদিন ইংরেজবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাটুলি এলাকায় এক বছরের ছোট্ট আদিক্সা দাসের জন্মদিন উপলক্ষেই এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলেন তাঁর বাবা দেবাশীষ দাস। সঙ্গ দিয়েছিলেন দেবাশিষবাবুর স্ত্রী কোয়েল সাহা দাস। এদিন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে ভ্রাম্যমান ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের একটি বড় গাড়ি ছোট্ট মেয়ে আদিক্সা দাসের বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির হয়। সেই ভ্রাম্যমান গাড়িতেই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় ব্যবসায়ী দেবাশিষবাবুর পুরাটুলি এলাকায় নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। পরিবারের একমাত্র মেয়ে আদিক্সার জন্মদিনে এমন পরিকল্পনা অনেক আগে থেকে নিয়েছিলেন দেবাশিষবাবু এবং তার স্ত্রী কোয়েল সাহা দাস । আর সেটা কার্যত বাস্তবে করে দেখালেন। ব্যবসায়ী দেবাশিষ দাস বলেন, মেডিকেল কলেজে চিকিৎসারত রোগীর আত্মীয়েরা এক ইউনিট রক্তের জন্য কিভাবে ব্লাড ব্যাংকে ছোটাছুটি করছে। মাঝেমধ্যেই দেখি মেডিকেল কলেজের রক্তের সংকট রোগীদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। আমিও একসময় হয়রানির শিকার হয়েছিলাম। তাই এদিন মেয়ের জন্মদিনে এমন ভাবেই স্বেচ্ছায় রক্তদানের শিবির করেছি। আমার আত্মীয় পরিজন বন্ধু-বান্ধবরা অনেকেই এগিয়ে এসে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছবি দাস জানিয়েছেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ । আমার এলাকার দাস পরিবার তাদের বাড়ির একমাত্র মেয়ের প্রথম জন্মদিনে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছেন । তাদের এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এভাবেই সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।

মে ২৯, ২০২৫
রাজ্য

পহেলগাঁওতে বাংলার কিশোর নিখোঁজ, পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার

কাশ্মীরে জনমজুরি করতে গিয়ে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের এক কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ১২ দিন ধরে ঘরের ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য পুলিশ, প্রশাসন এবং এলাকার মন্ত্রী ও সাংসদদের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। গত ৯ মে ভারত-বাংলাদেশ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই রহস্যজনকভাবে কাশ্মীরে কাজ করতে যাওয়া হরিশ্চন্দ্রপুরের ১৯ বছর বয়সী কিশোর আসফাক হক নিখোঁজ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিখোঁজ ওই কিশোরের পরিবারের লোকেরা হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।পুলিশ ওই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ওই শ্রমিক আসফাক হকের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাটিওন গ্রামে। তারা তিন ভাই এক বোন। বাড়ির বড় ছেলে আশফাক।আসফাকের বাবা আকবর আলি জানিয়েছেন, গত একমাস আগে কাশ্মীরের আপেল বাগানে কাজ করছিল ছেলে। এরপর পহেলগাঁওয়ে একটি বিল্ডিং নির্মাণ সংস্থায় শ্রমিকের কাজ করছিল। এরই মধ্যে সেখানে সন্ত্রাসী হামলা আর তারপরেই ভারত - পাকিস্তান সংঘর্ষ শুরু হয়। গত ৯ মে ছেলে বাড়িতে ফোন করেছিল। আমাদের ফোন করে বলেছিল কাশ্মীরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। যে কোন উপায়ে সে মালদার বাড়িতে ফিরে আসবে। ওইদিন রাতেই শেষ কথা হয়েছিল। তারপর থেকে ছেলের কোনও খোঁজ নেই। জানি না ছেলে কোথায় আছে। তবে আমরা চাই ছেলে সুস্থ মতো বাড়িতে ফিরে আসুক। আর ওকে কাশ্মীরে যেতে দেব না কাজ করতে। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তাজমুল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলব। দ্রুত যাতে আসফাকের সন্ধান পাওয়া যায় , সে ব্যাপারে চেষ্টা চালাব। পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের মাধ্যমে কাশ্মীর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

মে ২২, ২০২৫
রাজ্য

প্রাণ বাঁচানোর তাগিদ, মুর্শিদাবাদ থেকে গঙ্গা পার হয়ে মালদার বৈষ্ণবনগর

নৌকায় নদী পার হয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেন কয়কশো মানুষ। মুর্শিদাবাদের অশান্তির পরিবেশ থেকে জীবন বাঁচাতে গঙ্গা পার হয়ে অসংখ্য আতঙ্কিত মানুষ আশ্রয় নিল মালদার বৈষ্ণবনগর থানার পারলালপুর এলাকায়। রবিবার সকাল হতেই ধুলিয়ান গঙ্গার ঘাট থেকে নৌকা করে শতাধিক মানুষেরা প্রাণ বাঁচাতে মালদায় এসে আশ্রয় নেয়। মালদার পারলালপুর হাইস্কুলে নির্যাতিত মানুষদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে প্রশাসন। এদিন চোখে মুখে একরাশ আতঙ্ক নিয়ে ধুলিয়ানের বাসিন্দা পারুল মন্ডল, নমিতা মন্ডলেরা বলেন, দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি সব লুট করে নিচ্ছে। বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাড়ির জলের ট্যাংকিতেও বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা করে মালদায় এসে জীবন বাঁচিয়েছি। কয়েকদিন ধরে ধুলিয়ান সহ আশেপাশের এলাকায় দুষ্কৃতীদের তান্ডবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাড়িতে চাল নেই, রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে। কোনও কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একদল দুষ্কৃতী প্রকাশ্যে তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত মহিলারা নিজেদের জীবন বাঁচাতেই নৌকায় নদী পার করেই মালদায় চলে আসছেন। এদিন আমাদের মতোন অসংখ্য মানুষ ধুলিয়ান থেকে নৌকা করে মালদার পারলালপুর হাইস্কুলে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরবাড়ি সব পড়ে আছে। বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র লুট করেছে দুষ্কৃতীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনরকম সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এখন সবাই জীবন বাঁচাতেই এদিক সেদিক ছুটছে। এদিন ধুলিয়ানের বেদবনা এলাকার বাসিন্দা অনন্ত সন্ন্যাসী বলেন, আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশু লুট করেছে দুষ্কৃতীরা। হঠাৎ করে কেন এরকম অরাজকতা তৈরি হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। দিনদুপুরে হাতে অস্ত্র নিয়ে তান্ডব চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। মূলত মহিলাদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। গত তিনদিন ধরে বাড়ির বাইরে বের হতে পারি নি। দিনমজুরি করে সংসার চালায়। হাতে কাজ নেই। বউ, ছেলে , মেয়ে নাতিনাতনি সবাই রয়েছে । কাজ না করলে সংসার চালবে কি করে? কিন্তু এই অশান্তির পরিস্থিতিতে বাড়ির বাইরে বের হতে পারছি না। তার মধ্যে ওরা দল বেঁধে শনিবার রাতে বাড়িতে ঢুকে সমস্ত কিছু লুট করে নিয়েছে। অল্পের জন্য আমরা পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছি। শনিবার রাতের এমন ঘটনার পর এদিন সকালে কোনরকমে নৌকা করে গঙ্গা নদীর ঘাট পার হয়ে মালদার পারলালপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। জানি না কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ঘরবাড়ি সবই চলে গেল। পার পারলালপুর এলাকার বাসিন্দা শ্রীমন্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষ ধুলিয়ানের গঙ্গার ঘাট হয়ে নৌকা করে মালদার পারলালপুরে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ স্কুলে উঠেছেন । আবার কেউ নিজেদের আত্মীয়র বাড়িতে ছুটে গিয়েছেন। এইসব মানুষদের আপাতত খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটা আন্দোলনের নামে এরকম অরাজকতা চলছে । অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনরকম কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মালদা সদর মহকুমা শাসক পঙ্কজ তামাং জানিয়েছেন, ধুলিয়ান থেকে নৌকা করে এখনো পর্যন্ত ১৭০ জন মানুষ পারলালপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। মুর্শিদাবাদের কয়েকটি এলাকায় বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। এসব মানুষদের প্রশাসনিক ভাবে খাওয়ার সহ ত্রাণ বিলির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুল ক্যাম্পে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৫
রাজ্য

অবশেষে মোথাবাড়িতে হাজির শুভেন্দু, আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে কথা

অবশেষে মোথাবাড়ি এলেন শুভেন্দু। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে শুক্রবার মালদার মোথাবাড়ি গেলেন বিধাসনসভার বিজেপি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, গত ২৮শে মার্চ মালদার মোথাবাড়িতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোলের ঘটনা ঘটে। এই গন্ডগোলে বেশকিছু দোকানপাট, বাড়ি ঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে। তাই আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে এবং কথা বলতেন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন। তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনতে মালদার মোথাবাড়িতে যান বিধানসভার বিজেপি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজকেই মালদাহে জেলা শাসকের অফিস ঘেরাও করবে বিজেপি।

এপ্রিল ১১, ২০২৫
রাজ্য

মালদা বালি চুরি আটকাতে প্রশাসন তৎপর, মূল পাচারকারী অধরা

বেআইনিভাবে মহানন্দা নদীর চর থেকে বালি চুরির অভিযোগে অভিযান চালালো জেলা প্রশাসন । বৃহস্পতিবার সকালে ইংরেজবাজার থানার পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে মালদার সদর মহকুমা শাসক পঙ্কজ তামাং সহ প্রশাসনের কর্তারা এই অভিযানের সামিল হয়। অভিযানের সময় কয়েকটি বালি বোঝায় ট্রাক্টর আটক করেছে পুলিশ। যদিও বেআইনিভাবে এই বালি পাচারের ঘটনায় শীস মহম্মদ এক কারবারি কে ধরতে পারে নি পুলিশ । অভিযানের আগাম খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাই বলে অভিযোগ।এদিন সকালে ইংরেজবাজার ব্লকের যদুপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়পুর এলাকার মহানন্দা নদীর ঘাটে বেআইনি বালি পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়পুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে চলছিল বালি লুটের কারবার। দিনভর নদীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল জেসিবি আর ট্রাক্টর। সবমিলিয়ে দৈনিক বিপুল টাকার কারবার চলার অভিযোগ ওঠে। যদুপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়পুর এলাকায় স্থানীয়ভাবে মহানন্দার ঘাটটি মেলা ঘাট নামে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে নদীবক্ষ থেকে জেসিবি দিয়ে তোলা হচ্ছে বালি। এরপর ট্রাক্টরে বোঝাই করে নিয়ে গিয়ে জমা করা হচ্ছে খানিক দূরে প্রায় নির্জন এলাকায়। এখানে বিপুল পরিমাণ বালির মজুত ভান্ডার দেখে সহজেই বোঝা সম্ভব কি বিপুল পরিমাণ বালি লুট হচ্ছে নদী থেকে। উচ্চমানের না হলেও এই ধুস বালির চাহিদা প্রচুর। নতুন বাড়ি তৈরির সময় ভিত থেকে রাস্তা নির্মাণ বহু ক্ষেত্রেই এই বালির ব্যবহার হয়। যা প্রতি টলি পিছু সাতশো থেকে এক হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এদিন মালদার সদর মহকুমা শাসক পঙ্কজ তামাং জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্তর থেকে রায়পুর এলাকার মহানন্দা নদীর চরের বালি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল । সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন সকালে ইংরেজবাজার থানার পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা উঠে এসেছে। এই নদীর চরে বেআইনিভাবে বালিশ পাচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার শীস মহম্মদ নামে একজন ব্যক্তির জড়িত রয়েছে বলেও জানতে পেরেছি। যদিও তাকে খোঁজ করে পাওয়া যায় নি । এদিন কয়েকটি বালি বোঝায় ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক দেবাহুতি ইন্দ্র জানিয়েছেন, রাজস্ব ফাঁকি দিয়েই বেআইনিভাবে নদীর চরের বালি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন প্রশাসনিক ভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরিমানার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এপ্রিল ১১, ২০২৫
রাজ্য

মালদা মেডিক্যাল কলেজের ফেসিলিটি ম্যানেজার সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার, বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ

এবার সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে মালদা মেডিক্যাল কলেজের ফেসিলিটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করলো সিবিআই। মঙ্গলবার তিনজন সিবিআই আধিকারিক হানা দেয়। মালদা মেডিক্যাল কলেজের ফেসিলিটি ম্যানেজার অভিজিৎ দাসকে গ্রেফতারের পর ইংরেজবাজার থানায় নিয়ে যায়। পরে সিবিআই কর্তারা সেখান থেকেই পুলিশি সহযোগিতা নিয়ে মালদা আদালতের ট্রানজিট রিমান্ডের মাধ্যমে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। এদিকে এদিন মালদা মেডিকেল কলেজের ফেসিলিটি ম্যানেজার অভিজিৎ দাস গ্রেপ্তার হওয়াতেই নতুন করে শোড়গোল পড়ে গিয়েছে ।মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত চার মাস আগে আলিপুরদুয়ার সরকারি হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মালদা মেডিকেল কলেজের ফেসিলিটি ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন অভিজিৎ দাস। আলিপুরদুয়ারের আগে তিনি কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বরানগর হাসপাতালে ওয়ার্ড মাস্টার পদে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে মোটা টাকার আর্থিক দুর্নীতিতে বিগত দিনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অভিজিৎ দাস। কলকাতার আলিপুরেই মূলত আর্থিক দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল অভিজিৎ দাস। পরবর্তীতে জামিন পেলেও মামলা চলতে থাকে। এরপর অভিজিৎ দাসের বিরুদ্ধে একাধিকবার আদালতে হাজিরা না হওয়া সমন জারি হয়। এবার সিবিআই অভিজিৎ দাসকে গ্রেফতার করেছে। এদিন মালদা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডাঃ প্রসেনজিৎ কুমার বর জানিয়েছেন, একটি পুরনো মামলায় মেডিকেল কলেজের ফেসিলিটি ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই কর্তারা। তিনি চার মাস আগে মেডিক্যাল কলেজে যোগদান করেছিলেন। এর আগে তিনি আলিপুরদুয়ার এলাকায় ছিলেন।

মার্চ ১১, ২০২৫
রাজ্য

সিভিকদের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ মালদায়, চালককে বেধরক মারধরের ভিডিও ভাইরাল

এর আগেও নানা ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। আরজি কর কাণ্ডে সিভিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এবার ঘটনার ক্ষেত্র মালদা। সিভিক ভলেন্টিয়ারের দাদাগিরি চলল!তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গাড়ি চালককে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কর্তব্যরত তিন সিভিক ভলেন্টিয়ার্সের বিরুদ্ধে।সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেলাবাড়ি নাকা পয়েন্টে। জখম গাড়ি চালক। হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন চালক। জখম গাড়ি চালকের নাম রুহুল আলী। তার বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের বাংরুয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,গাড়ি চালক ব্যবসায়ীদের গরু ডালখোলা হাট থেকে নিয়ে আসছিলেন। সঙ্গে ছিল গাড়ির মালিক। ভেলা বাড়ি নাকা পয়েন্টে তিন সিভিক গাড়ি আটকান। এক হাজার টাকা দাবি করেন। চালক পাঁচশ টাকা দিতে চাইলে সেই টাকা নিতে অস্বীকার করেন সিভিক। এরপর তিন জন সিভিক চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাকা পয়েন্টের ভিতরে ঘরে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করে। চালকের হাতে আঘাত লাগে। হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে চিকিৎসা করান চালক।

মার্চ ০৮, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বিতর্কে কড়া হাইকোর্ট! রাজ্যকে বেঁধে দেওয়া হল সময়

বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘ দিন ধরেই কাঁটাতার বসানো নিয়ে সমস্যা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় সীমান্তের বড় অংশ এখনও সুরক্ষিত করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর করা মামলায় রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানোর জন্য জমির টাকা আগেই দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সেই জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রের হাতে তুলে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য কেন নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে জমি অধিগ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি নেওয়া যায়। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে কেন সেই ধারা প্রয়োগ করা হবে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।বিচারপতি পার্থসারথী সেন বলেন, একটি রাজ্য যদি আন্তর্জাতিক সীমান্তের অংশীদার হয়, তা হলে তারা নিজেরা কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না, তা সত্যিই আশ্চর্যের।আদালত জানায়, যে জমির জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে এবং অধিগ্রহণও হয়েছে, সেই জমি যত দ্রুত সম্ভব হস্তান্তর করতে হবে। এই ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।রাজ্য এখনও জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ক্যাবিনেটের অনুমোদন পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকলে জেলা শাসক সরাসরি আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মামলাকারীর আইনজীবীও জানান, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ ধারায় সেই সুযোগ রয়েছে।মামলায় ২০১৬ সাল থেকে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের প্রসঙ্গও তোলা হয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাধিকবার রাজ্যকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য ক্যাবিনেট কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জোর করে জমি অধিগ্রহণ রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ৪০ ধারা প্রয়োগ করা যায় না বলেই রাজ্যের অবস্থান। রাজ্য আরও জানায়, যেসব জমির টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেগুলি ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। কিছু জেলায় এক-দু মাস সময় বেশি লাগতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুন মাসে এবং মুর্শিদাবাদে জুন মাসে জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ হবে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩০ শতাংশের ইঙ্গিত করে সতর্কতা! কাদের উদ্দেশে বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

ভোটের আগে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে সরাসরি সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পরে প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলায় কেউ কেউ ইচ্ছে করেই গোলমাল পাকাতে চাইছে। সেই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন। যদি কোনও একটি বড় অংশ রাস্তায় নেমে ঝগড়া শুরু করে, তা হলে প্রতিদিন অবরোধ, বিক্ষোভ হবে। তাঁর কথায়, এতে প্রশাসনের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তফশিলি জাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের কথাও মাথায় রাখতে হবে। আদিবাসীদের ওপর সামান্য কিছু ঘটলেও ট্রেন অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু তিনি চান না এমন কিছু হোক। তাঁর ইচ্ছা, সবাই নিজের মতো শান্তিতে থাকুক, কেউ কারও বিষয়ে নাক না গলাক।ভোটের সময় কিছু মানুষ ইচ্ছে করে অশান্তি ছড়াতে চায় বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোট আসে আর যায়, কিন্তু তাঁকে তো সারা বছর রাজ্য চালাতে হয়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিতে থাকার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ৩০ শতাংশের কথা বললেও, কোনও সম্প্রদায়ের নাম নেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনি সংখ্যালঘুদের কথাই ইঙ্গিতে বলেছেন। কারণ বাংলায় সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টিতে সংখ্যালঘু ভোট বড় ভূমিকা নেয়। এই ১৪৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৩১টি, বিজেপির ১৪টি এবং আইএসএফের একটি আসন। আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটের হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে, আর ৭২টি বিধানসভায় তা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ।এর মধ্যেই রাজ্য বিজেপিতে নেতৃত্ব বদলের পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজেপি সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনও বলেননি যে মুসলিম ভোট চান না। তিনি শুধু বলেছেন যে তিনি সংখ্যালঘুদের ভোট পান না। তাঁর দাবি, অপরাধীর কোনও জাত বা ধর্ম হয় না, আর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাঁকে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সিপিএম। দলের নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, যদি পুলিশ-প্রশাসন তৃণমূলকে দেখলে ভয় পায়, তাহলে অশান্তি কে আটকাবে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও তৃণমূলদুপক্ষই ধর্ম ও জাতের রাজনীতি করছে, আর তার ফলেই রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বলিউডে ভূমিকম্প! প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণা অরিজিৎ সিংয়ের, চমকে গেলেন অনুরাগীরা

তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আসমুদ্রহিমাচল। সেই অরিজিৎ সিংই আর ছবির জন্য গান গাইবেন নাএমন ঘোষণায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কার্যত চমকে গিয়েছেন অনুরাগীরা। সোশাল মিডিয়ায় নিজেই সেই ঘোষণা করেছেন জনপ্রিয় গায়ক।নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে তাঁকে ভালোবাসার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। এরপরই তিনি জানান, এখন থেকে আর নতুন কোনও ছবিতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে কাজ করবেন না। এই অধ্যায় থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর কথায়, এই যাত্রাটা ছিল ভীষণ সুন্দর।সেই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, ঈশ্বর তাঁর প্রতি খুবই সদয় ছিলেন। তিনি নিজেকে ভালো সঙ্গীতের একজন ভক্ত বলেই মনে করেন। ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবেই আরও শিখবেন, আরও কাজ করবেন। অনুরাগীদের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গান তৈরি করা তিনি বন্ধ করছেন না। কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে, সেগুলি শেষ করবেন। তাই এই বছর শ্রোতারা কিছু নতুন গান পেতেও পারেন।এই ঘোষণার পর থেকেই মনখারাপ অনুরাগীদের। আচমকা এমন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। সত্যিই কি অরিজিৎ এমন ঘোষণা করলেনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল জন্ম অরিজিৎ সিংয়ের। একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। গত বছরই পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি।২০০৫ সালে ফেম গুরুকুল-এর প্রতিযোগী হিসেবেই প্রথম নজর কাড়েন অরিজিৎ। যদিও সেই প্রতিযোগিতায় তিনি বিজয়ী হননি। কিন্তু তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মার্ডার ২ ছবিতে গাওয়া ফির মহব্বত গান দিয়েই বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরু। তারপর একের পর এক সুপারহিট গান। ধীরে ধীরে বলিউডের পুরুষ প্লেব্যাক কণ্ঠ মানেই অরিজিৎএমন ধারণা গড়ে ওঠে।মাত্র ৩৮ বছর বয়স অরিজিতের। এখনও চল্লিশ পেরোননি। সকলেরই ধারণা ছিল, সামনে তাঁর আরও দীর্ঘ সোনালি পথ পড়ে রয়েছে। কিন্তু সেই সময়েই আচমকা প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, ছবিতে গান গাইবেন না ঠিকই, কিন্তু তাঁর সঙ্গীতচর্চা থামছে না। অন্যভাবে তিনি গান নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।তাহলে কি অন্য কোনও বড় পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছেন অরিজিৎ? সেই উত্তর আপাতত সময়ই দেবে। তবে আপাতত তাঁর অনুরাগীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নকেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠ?

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

চোখের জলে ভাসলেন চিরঞ্জিত! টিকিট চাইতে আবেগঘন বার্তা তৃণমূল বিধায়কের

দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। কে টিকিট পাবেন, কে বাদ পড়বেনএই প্রশ্নে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঠিক সেই সময়েই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। ভাষণ দিতে গিয়ে কার্যত চোখে জল চলে আসে তাঁর। বলেন, মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন, এখনও অনেক কাজ বাকি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আবার তাঁকে টিকিট দেন, তবে সেই অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করবেনএই আশ্বাসও দেন তিনি।গত ১৫ বছর ধরে বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। কিন্তু ২০২৬ সালের ভোটের আগে বারাসতে কানাঘুষো শুরু হয়েছিল, তিনি আদৌ টিকিট পাবেন কি না। কারণ, রাজনীতির ময়দানে তাঁকে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায় না বলেই অভিযোগ। শাসকদলের বড় মিছিল বা আন্দোলনেও সচরাচর তাঁকে দেখা যায় না। এরই মধ্যে বারাসতের অলিগলিতে ঘুরছে নতুন নামসাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে, চিকিৎসক বৈদ্যনাথ দস্তিদারের।এই জল্পনার মধ্যেও চিরঞ্জিত জানান, তাঁর ভরসা একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর উপরই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা হয়তো তিনিও বুঝতে পেরেছেন, তাই আবেগে ভেসে গিয়েছেন। যদিও চিরঞ্জিত নিজে বলেন, তিনি রাজনীতি বোঝেন না, মানুষ বোঝেন। তাঁর দাবি, এত বছর মানুষের জন্য কাজ করেছেন। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেছিলেন, অপশাসন সরাতে কিছু আসন দরকার। তখন নেত্রীর বিশ্বাস ছিল, তিনি যেখানে দাঁড়াবেন, হারবেন না।চিরঞ্জিত এ দিন বলেন, তিনি মিছিল করতে পারেন না, স্লোগান দিতে পারেন না, চিৎকার করতেও পারেন না। কিন্তু মানুষের কাজ করতে পারেন। আক্ষেপের সুরে জানান, বারাসতে একটি অডিটোরিয়াম তৈরির ইচ্ছে ছিল তাঁর। কিন্তু টাকার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। সেই কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। সুযোগ পেলে সেটাও শেষ করতে চান তিনি।শেষে চিরঞ্জিত বলেন, নেত্রী যদি মনে করেন তাঁকে আবার থাকতে হবে, তখন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তিনি এগোবেন। আপাতত সব উত্তরই মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিদেশ

শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ জেনারেলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ! কাঁপছে বেজিং

চিনা সেনার অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কার্যত গোটা চিনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চিনা সেনার পরমাণু বোমা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন নথি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিনা সেনার এক শীর্ষ জেনারেল গোপনে সেই টপ সিক্রেট নথি আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছেন। এর ফলে চিনের পরমাণু অস্ত্র তৈরির বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নাকি পৌঁছে গিয়েছে ওয়াশিংটনের কাছে।অভিযুক্ত ওই সেনাকর্তার নাম ঝ্যাং ইউঝিয়া। বয়স ৭৫। তিনি চিনা সেনার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। অভিযোগ, চিনের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প সংক্রান্ত কোর টেকনিক্যাল ডেটা তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আমেরিকাকে পাচার করেছেন। শুধু তাই নয়, জেনারেল থেকে আরও উঁচু পদে পৌঁছতে উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিকদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।একসময় ঝ্যাং ছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ ওঠায় বেজিংয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চিন সরকার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানালেও, আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, এই তদন্ত আসলে লোকদেখানো। ভিতরে ভিতরে ঝ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা চলছে বলেও জল্পনা।ঝ্যাং সেই সরকারি সংস্থার শীর্ষকর্তা ছিলেন, যারা চিনের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পের দেখভাল করে। ওই সংস্থাই পরমাণু বোমার গবেষণা, উন্নয়ন এবং সরঞ্জাম সংগ্রহের দায়িত্বে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঝ্যাং এই সমস্ত গোপন তথ্য আমেরিকার হাতে তুলে দেন। সেই অর্থ আবার নিজের পদোন্নতির জন্য ঘুষ হিসেবেও ব্যবহার করতেন।চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক বা চিনা দূতাবাস এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে বিবিসির দাবি, ঝ্যাংকে ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাত সদস্যের ওই কমিশনে এখন নাকি মাত্র দুজন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ ওঠায় তাঁদের সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে।এই কমিশনের আর এক সদস্য লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। ঝ্যাং এবং লিউএই দুই শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় চিনা সেনার উচ্চমহলে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই প্রথম শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোনও সেনাকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তদন্ত শুরু হল।ঝ্যাং এবং লিউ দুজনেই সত্তর ও আশির দশকে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে ৬১ বছরের লিউ পিপলস লিবারেশন আর্মির জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের প্রধান ছিলেন। এই বিভাগই চিনা সেনার প্রশিক্ষণ, অপারেশন এবং গোয়েন্দা কাজের দায়িত্বে থাকে।গত দুবছর ধরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চিনা সেনার অন্দরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চলছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, সেই অভিযানের ফলেই এই ভয়াবহ দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছে। ১৯৮০ সালে গঠিত সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন চিনা সেনার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। লক্ষ লক্ষ সেনার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু সেই কমিশনের সদস্য সংখ্যা এখন মাত্র দুজনে নেমে আসায়, তাইওয়ান প্রশ্নে চিনের সামরিক পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেই মত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশন! তিন আধিকারিকের বদলি ঘিরে কড়া চিঠি, বেঁধে দেওয়া সময়

নবান্ন এবং নির্বাচন কমিশনের সংঘাত আরও তীব্র হল। রাজ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে কেন তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে এই বদলির নির্দেশ বাতিল করার দাবি জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি বুধবার বিকেল তিনটের মধ্যে রাজ্যকে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে বদলি করা যাবে না। এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব ছিল রাজ্যের মুখ্যসচিবের উপর। অথচ সেই সময়েই রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করেছে, যা কমিশনের মতে সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ।যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন স্মিতা পাণ্ডে, যিনি পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের দায়িত্বে ছিলেন, অশ্বিনী কুমার যাদব, যিনি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর দেখতেন, এবং রণধীর কুমার, যাঁর দায়িত্বে ছিল উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তর। এই তিন আধিকারিকের বদলির ক্ষেত্রেই কমিশনের কাছ থেকে কোনও আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।নির্বাচন কমিশনের মতে, এই বদলি তাদের স্পষ্ট নির্দেশের লঙ্ঘন। সেই কারণেই মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত জবাব চাওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বুধবার বিকেলের মধ্যে রাজ্য সরকারকে পুরো বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান জানাতে হবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর বিতর্কে বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন কবি জয় গোস্বামী

পদবি সংক্রান্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে তৈরি হওয়া গোলযোগ এবার পৌঁছে গেল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে মামলাটি দায়ের করেছেন কবি জয় গোস্বামী নিজেই। এত দিন এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন খোদ কবি। ফলে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় জয় গোস্বামীর নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই তালিকায় রয়েছে তাঁর মেয়ের নামও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল না থাকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা তুলে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। গত ২ জানুয়ারি তিনি প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন।এই বিষয়টি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতেন, তাঁকেও হয়তো এসআইআরের লাইনে দাঁড় করানো হত।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্য, প্রতিদিন নতুন করে আবেদন জমা পড়ছে এবং তাতে গোটা প্রক্রিয়াটাকেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। শুনানিতে আইনজীবী জানান, বাংলায় পদবীর নানা রকম বানানের কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেমন মুখার্জি ও মুখোপাধ্যায়এই ধরনের পার্থক্যের জন্যই অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। এমনকি আধার কার্ডও অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারিই এই মামলার শুনানি হবে। অর্থাৎ আগেই যে দিন ধার্য ছিল, সেই দিনেই বিষয়টি শুনবে শীর্ষ আদালত।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআরের শুনানিতে ত্বহা সিদ্দিকী! বেরিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ভোটে জবাবের হুঁশিয়ারি

এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস থেকে বাদ পড়লেন না ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীও। মঙ্গলবার শুনানিতে হাজির হয়ে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ত্বহার দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও আধিকারিকরা সেগুলি দেখে শুধু মুচকি হেসেছেন। তাঁর কথায়, শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এই হয়রানির জবাব যে ভোটেই মিলবে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।শুনানির নোটিস পেয়ে এ দিন নির্ধারিত সময়েই হাজির হন ত্বহা সিদ্দিকী। বাইরে বেরিয়ে তিনি বলেন, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে, আর রাজনৈতিক দলগুলি পরস্পরের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। তাঁর মন্তব্য, বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরোধী হলেও বাস্তবে তারা একই খেলায় নেমেছে। একজন কামড়াচ্ছে, আর একজন সেই কামড় সারানোর ভান করছেএভাবেই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন তিনি।পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে ত্বহা বলেন, তাঁর পরিবারের ইতিহাস শুধু এই রাজ্য নয়, দেশের বাইরেও বহু মানুষ জানেন। তবুও তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মুসলিমদের লক্ষ্য করেই বেশি করে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কারণ বিজেপির ধারণা, মুসলিমরা তাদের ভোট দেয় না। ত্বহার দাবি, তাঁরা কোনও দলকেই অন্ধভাবে সমর্থন করেন না। যে দল উন্নয়ন করে, তার পাশেই থাকেন।ত্বহা আরও বলেন, ভোটের আগে রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষের খুব কাছে এসে যান, কিন্তু ভোট মিটে গেলেই তাঁদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেই জবাব কোন দল পাবে, বিজেপি না তৃণমূলসে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি পীরজাদা।শুনানির অভিজ্ঞতা নিয়ে ত্বহা জানান, তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি। তাঁর কথায়, তিনি সমস্ত কাগজপত্র ঠিকঠাক রেখেই শুনানিতে গিয়েছিলেন। আধিকারিকরা নথি দেখে শুধু হাসছিলেন, কোনও প্রশ্নই করেননি। ত্বহার দাবি, আধিকারিকরাও চাপে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই গোটা পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal